হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকা থেকে কোনো প্রকার Bill of Entry দাখিল ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ছাড়াই প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের ১,৯৬২ কেজি (৫৬ কার্টন) পণ্য বের করে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ আবু হানিফ ও তার সিন্ডিকেটের দিকে, যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাস্টম হাউস ঢাকার প্রিভেন্টিভ শাখার ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মোঃ আমিনুল ইসলাম নিয়ন্ত্রণ করেন বলে জানা গেছে।
উচ্চমূল্য ও উচ্চ শুল্কযুক্ত এই পণ্যচালানটিতে মোবাইল ফোন সেট, Mobile Phone CKD/SKD, LCD, আমদানি নিষিদ্ধ ইলেকট্রিক সিগারেট এবং সিগারেটের সরকারি রাজস্ব স্ট্যাম্প (Cigarette Banderole Roll) অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ঘটনা সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশের পর গত ০৭/০৯/২০২৬ তারিখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মোঃ মইনউদ্দিনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। ঘটনাটি সিএন্ডএফ এজেন্ট ‘গুনগুন এন্টারপ্রাইজ’-এর মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে বলে বিমানের কর্মকর্তা মোঃ আলী আশরাফুজ্জামান এবং কার্গো হেলপার খোরশেদ আলমের লিখিত বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে থাকা জড়িত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিলেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত নীরব ভূমিকা পালন করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গুনগুন এন্টারপ্রাইজ-এর কাস্টমস সরকার আবু হানিফ এবং ডিসি আমিনুল ইসলামের মধ্যকার বিশেষ সম্পর্কের সুযোগেই অফিস চলাকালীন কাস্টমস কর্মকর্তার কক্ষে চোরাচালানের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। এই প্রভাবশালী কর্মকর্তার ক্ষমতার কারণেই কাস্টম হাউস, ঢাকা কর্তৃপক্ষ সিএন্ডএফ লাইসেন্স বাতিল বা কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছে।
দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকা থেকে ডকুমেন্টেশন ছাড়াই ১,৯৬২ কেজির বিশাল পণ্যচালান বের হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিমান কর্তৃপক্ষ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও, ফৌজদারি অপরাধে রূপ নেওয়া এই ঘটনায় কাস্টম হাউস, ঢাকা শেষ পর্যন্ত ডিসি আমিনুলের ক্ষমতার কাছে নতিস্বীকার করবে কি না—তা নিয়েই সচেতন মহলে জোর আলোচনা চলছে।
মন্তব্য করুন