আয়কর বিভাগের উচ্চমান সহকারী হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করে বর্তমানে ঢাকার কর অঞ্চল-৮-এর অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার পদে কর্মরত সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। ২০০৭ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তার সীমিত সরকারি আয়ের সাথে সামঞ্জস্যহীন অঢেল সম্পদের সন্ধান পেয়ে ২০২২ সালে অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই তদন্ত বর্তমানে প্রকাশ্য অনুসন্ধানে রূপ নিয়েছে এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানে একাধিক কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও তার বিপুল সম্পদের অসংগতিপূর্ণ নথিপত্র সংস্থাটির হাতে এসেছে।
দুদকের অনুসন্ধানে রাজধানী ঢাকা ও তার নিজ জেলা পাবনায় সাইফুল ইসলাম ও তার পরিবারের নামে নামে-বেনামে থাকা প্রচুর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকার ধানমন্ডির সুলতানগঞ্জ এলাকায় একটি এবং মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনে স্ত্রীসহ তার নামে দুটিসহ মোট তিনটি ফ্ল্যাটের সন্ধান পেয়েছে দুদক। এছাড়া নিজ জেলা পাবনার গোগাছি গ্রামে তার একটি আলিশান বাড়ি এবং ব্যাংকে অর্ধকোটি টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। এমনকি পাবনা জেলা সদরে তার শ্বশুর আফজাল মাহমুদের নামে থাকা বহুতল বাড়ি ও কয়েক একর জমির পেছনে এই কর কর্মকর্তার অবৈধ অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে অনুসন্ধানকারী দল।
অনুসন্ধান প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এনবিআর, রাজউক, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়, ভূমি অফিস, সিটি করপোরেশন ও শেয়ারবাজার থেকে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাইফুল ইসলামের ব্যাংকে অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ মিললেও অর্জিত সম্পদের পক্ষে তিনি ও তার স্ত্রী যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা সন্তোষজনক নয়। অভিযোগ রয়েছে, সম্পদের অবৈধ উৎস গোপন করতে স্ত্রী আল্লিকা মাহমুদকে আয়কর নথিতে গরু মোটাতাজাকরণ ও মৎস্য ব্যবসায়ী হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে বাস্তবে সাবেক এই এনজিও কর্মকর্তার এ ধরনের কোনো ব্যবসার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
নিয়মবহির্ভূত সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাকরির শুরুতেই মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রাজশাহী বিভাগের পাবনা জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও তিনি নথিপত্রে ঢাকা বিভাগের ময়মনসিংহ জেলাকে নিজের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে দেখিয়েছিলেন। বর্তমানে কর অঞ্চল-৮-এর সার্কেল ১৬৯ ও ১৭৬-এর দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের মতো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই চলছে। অনুসন্ধান শেষ না হওয়ায় এবং এসব বিষয়ে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি পরবর্তীতে কথা বলবেন জানালেও শেষ পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন